মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

প্রচ্ছদ > পজিটিভ বাংলাদেশ > ফিউচার লিডার’স লিগঃআইডিয়া দিয়ে বিশ্বজয়!

ফিউচার লিডার’স লিগঃআইডিয়া দিয়ে বিশ্বজয়!

ayman
সাজেদুল ইসলাম শুভ্রঃ অনেক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সূতিকাগার ইউনিলিভার। প্রতিবছরই তারা ফিউচার লিডার’স লিগ নামে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, অবশ্য এত দারুণভাবে হয়ে যায় সবকিছু, প্রতিযোগিতা যেন রীতিমতো উত্সবে রূপ নেয়। মূলত তারা যেসব দেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেখান থেকে তুখোড় কিছু তরুণ ছেলেমেয়েকে নিয়ে আসা হয়। সারাবিশ্বের আগ্রহী তরুণদের চোখ থাকে সেখানে, কী দারুণ দারুণ আইডিয়া নিয়েই না এসেছে এ ছেলেমেয়েরা! আর এদের সবাইকেই নিজ নিজ আঞ্চলিক পর্যায়ে নানা ধাপে প্রতিযোগিতা পার করে তবেই আসতে হয় আন্তর্জাতিক মঞ্চে। বাংলাদেশে বিজমায়েস্ট্রো শীর্ষক এক প্রতিযোগিতা করেছিল ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সেখানের বিজয়ী দলই হলো ইশমাম, আয়মান ও সাজিদদের ‘টিম বাংলাদেশ’!

ইশমাম, আয়মান আর সাজিদ; আইবিএতে পড়াশোনার শুরু করার পর থেকেই দারুণ বন্ধুত্ব তাদের। এই তিন বন্ধুই সম্প্রতি বাংলাদেশের হয়ে নিয়ে এলো বড় এক সাফল্য। বহুজাতিক সংস্থা ইউনিলিভারের আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ফিউচার লিডার’স লিগ এবার হয়ে গেল যুক্তরাজ্যে। বিশ্বব্যাপী তুখোড় ছেলেমেয়েদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছে এই তিন তরুণ তুর্কি! সারা বিশ্বের ১১০০ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩৯৬০০ জন অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন অঞ্চলে, শেষটায় লন্ডনের এই উত্সবে শামিল হয় ২৯টি টিমের ৮৭ জন সদস্য। গেল বছর বাংলাদেশ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগ অংশগ্রহণ করেছিল, সেবারও প্রথম রানার্স আপ হয় সেই টিম। এবারে তো চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশে ফিরল বাংলাদেশের ছেলেরা।

বাংলাদেশের এই দলে ছিল ইশমাম আহমেদ চৌধুরী, বর্তমানে তিনি গ্রামীণফোনে কর্মরত রয়েছেন। আয়মান সাদিক তো টেন মিনিট স্কুল নিয়েই আছেন, দেশের ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে এই প্ল্যাটফর্ম। অন্যদিকে সাজিদ আলম এসিআই কনজ্যুমারে রয়েছেন, নতুন মোবাইল ব্র্যান্ড স্টাইলাসের মার্কেট ডেভেলপমেন্টে কর্মরত তিনি।

ফিউচার লিডার’স লিগের শুরুর দিনে তাদেরকে ৫টা বড় গ্রুপে ভাগ করে ফেলা হয়, এরপর গ্লোবাল ইউনিলিভার থেকে একজন সুপারভাইজার দিয়ে তাদেরকে লন্ডনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন অবশ্য গেম-বেজড কিছু কর্মসূচিও ছিল। পরদিন তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিলিভারের গ্লোবাল হেডকোয়ার্টারে। সেখানে ইউনিলিভারের সিইও পল পলম্যনা ছাড়াও তাদের সাথে সাক্ষাত হয় প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা, ফিন্যান্সের সিনিয়র ভিপিসহ আরও অনেকের। এরপর তারা ঘুরে দেখেছেন মার্কেটিং, ডাটা অ্যানালাইসিসসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো। তৃতীয় দিনে সেমিফাইনাল হয়, সেদিনই গ্লোবাল লিডারদের সেশনেও অংশ নেন প্রতিযোগীরা। চতুর্থ দিনে ফেসবুক আর স্ন্যাপচ্যাট টিমের সেশন ছিল, এরপরই হয় ফাইনাল।

 

জানা যাক, টিম বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী ছিল, যা দিয়েই বাজিমাত্ করলেন তারা। প্রথমত, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তারা একটা হ্যাশট্যাগের ধারণা আনেন, Hairgirls লিখে ফেসবুকে সাজেশন্স অথবা কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে করবে মেয়েরা, অন্য মেয়েরা আবার সেখানেই হয়তো সমাধান জানাবে সেটার। ফাইনালে আইডিয়া ছিল কোনো একটা বিষয়ে ফোকাস রাখা। আমরা চুলের জট ছাড়ানো বা হেয়ার ট্যাঙ্গলিংকে বেছে নিই। তথ্য আছে, এক জীবনে মেয়েরা ৮২ দিনই কাটিয়ে দেয় এই জট ছাড়ানোর পিছে, আর কন্ডিশনারই দিতে পারে এর থেকে মুক্তি। কাজেই তারা একটি ক্যাম্পেইনের ধারণা আনলেন, Untangle your hair, untangle your life!

 

আসলে বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক রকম সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা ছেলেমেয়েরা আসায় একেকজনের চিন্তার ধরণ ছিল একেক দৃষ্টিকোণ থেকে। কাজেই নানা রকম আইডিয়া এলো, সবগুলোই ছিল দারুণ ও চ্যালেঞ্জিং। আর বাংলাদেশি দলটার সাফল্যের অন্যতম রহস্য আসলে তাদের প্রত্যকেই একে অন্যকে ভালোভাবে জানে, সবার চিন্তাভাবনাকেই তারা গুরুত্ব দেয় এবং যার যার ভিতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে পারে, আর এই সব মিলিয়েই তো দলগত সাফল্য, যেটাকে এখন আমরা দাবি করতেই পারি দেশের সাফল্য হিসেবে!

পাঠকের মন্তব্য

আপনার ই-মেইল অপ্রকাশিত থাকবেবক্সটি পূরণ করুন *

*

Pin It on Pinterest

Shares
Share This