বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮

প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস ক্লাব > থ্যালাসেমিয়া দিবসে মেডিসিন ক্লাব-রংপুর মেডিকেলের আয়োজন

থ্যালাসেমিয়া দিবসে মেডিসিন ক্লাব-রংপুর মেডিকেলের আয়োজন


13214973_995898303828057_1850745272_o (1)
শেখ হাসান হায়দার:

থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রক্তের রোগ। মা-বাবার মধ্যে কেউ বা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া রোগী বা এ রোগের বাহক হলে সন্তান এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

৮ তারিখে ছিল বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস,সে উপলক্ষে মেডিসিন ক্লাব,রংপুর মেডিকেল কলেজ ইউনিটে গত ৯ মে উদযাপিত হল। থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক শিক্ষামূলক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের। এরপরে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটির বেশি লোক বিভিন্ন ধরনের বিটা থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করে। ফলে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ শিশুর জন্ম হচ্ছে জটিল থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে।

আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সঠিক কোনো পরিসংখ্যাণ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, বাংলাদেশে তিন শতাংশ লোক বিটা থ্যালাসেমিয়ার বাহক, চার শতাংশ অন্যান্য ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন রোগের বাহক। অর্থাত্ দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার সাত শতাংশ লোক এ রোগে আক্রান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার অপর একটি দেশ মালদ্ব্বীপে এই রোগের হার সর্বোচ্চ। প্রায় ১৮ শতাংশ।

5352cb5213260-Untitled-3
অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন ইউনিটের সভাপতি ডাঃপার্থ প্রতিম সেন, সহ সভাপতি ডাঃ তানিয়া ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদকঃ ফাহমিদা নাঈমা ইসলাম,প্রি ক্লিনিকাল সেক্রেটারি আবরার জাহীন ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ আর মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।
সব শেষে,ক্লাব কর্মসূচী বিষয়ক বিশেষ ওয়াল ম্যাগাজিন উন্মোচনের মাধ্যমে শেষ হয় থ্যালোসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কার্যক্রমের।
 বক্তারা বলেন থ্যালাসেমিয়া দু’টি প্রধান ধরনের হতে পারে, আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বেটা থ্যালাসেমিয়া। যাদের হিমোগ্লোবিনে আলফা অথবা বিটা চেইন পরিমাণে কম থাকে, তাদের বলা হয় আলফা অথবা বিটা থ্যালাসেমিয়া। আলফা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়। অন্যদিকে বেটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিত্সা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে থ্যালোসেমিয়ার ওপর প্রেজেন্টশন উপস্থাপন করেনঃ ম্যাগাজিন ও পাবলিকেশন সেক্রেটারিঃ সুনন্দা সরকার

প্রেজেন্টেশনে সুনন্দা সরকার থ্যালোসেমিয়া বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন।থ্যালোসেমিয়ার প্রতিকার সম্পর্কে তিনি জানান–

মেজর থ্যালাসেমিয়ার রোগীকে নিয়মিত বিরতিতে রক্ত দিতে হয়। তা না হলে তাকে বাঁচানো মুশকিল। এর সঙ্গে বারবার লোহিত কণিকা ভেঙে যাওয়ার কারণে এবং বারবার রক্ত দেওয়ার জন্য এদের শরীরে অতিরিক্ত আয়রন বা লৌহ জমে যায়। অতিরিক্ত আয়রন বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে গ্রন্থিগুলোতে জমে গেলে সেই গ্রন্থির কার্যকারিতা নষ্ট হয়। এজন্য আয়রনযুক্ত খাবার বা আয়রন বড়ি এড়িয়ে চলা দরকার। প্রয়োজনে নিয়মিত রক্ত থেকে আয়রন নিষ্কাশন করার দরকার পড়ে। অনেক সময় প্লীহা কেটে ফেলে দিতে হয়। তবে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হলো এর নিরাময়ে একমাত্র চিকিৎসা।

মাইনর থ্যালাসেমিয়া বাহকদের অনেকেই এই সমস্যার উপস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ফলে দুজন আক্রান্ত জিনের অধিকারী বা দুজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাঁদের সন্তান মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।মৃদু মাত্রার রক্তস্বল্পতা হলেও অকারণে আয়রন বড়ি না খেয়ে রক্তস্বল্পতার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। দম্পতির কেউ বাহক হলে গর্ভধারণের আগেই কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়। দুজনেই বাহক হলে যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের দরকার।

পাঠকের মন্তব্য

আপনার ই-মেইল অপ্রকাশিত থাকবেবক্সটি পূরণ করুন *

*

Pin It on Pinterest

Shares
Share This