বুধবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

প্রচ্ছদ > তারুণ্য > “উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন”-হাসিব রশিদ

“উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন”-হাসিব রশিদ

হাসিব রশিদ: সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে স্টার্ট-আপ শুরু করা কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে লক্ষ্যজনক হারে। তবে এদের ঠিক কত শতাংশ সত্যিকার অর্থে সফলতা পাচ্ছে এর কোন সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় উদ্যোক্তাদের একটা বড় অংশ নিজেদের উদ্যোগ শুরু করলেও তা পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের বাঁধার সম্মুখীন হয়ে সেই উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে না, কিংবা হাল ছেড়ে দেয়। এতে যে শুধু একটা সম্ভাবনাময় উদ্যোগের মৃত্যু হয় তাই-ই নয়, সৃষ্টি হয় একটা হতাশার।

rashid

বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বর্তমান অবস্থা, তারা যেসকল বাঁধার সম্মুখীন হয়, যে যে কারণে থেমে যায় যাত্রা, কিংবা যেইসব বাস্তব কারণে অনেক উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়, সেই বিষয়গুলো বিস্তারিত গবেষণার উদ্দেশ্যে ঢাকার এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার এবং জাংশন বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে এই বছরেরই জানুয়ারী মাসে শুরু হয় অন্ট্রোপ্রিনিয়রশিপ রিসার্চ ফেলোশিপ।

দুই পর্বের এই গবেষণা কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ইএমকে সেন্টার, সার্বিক আয়োজনে আছে জাংশন বাংলাদেশ। দুই পর্বের এই গবেষণায় প্রত্যেক পর্বে মোট চারটি করে আটটি দলকে ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক দলে আছে তিনজন করে সদস্য। প্রথম পর্বে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ডজনখানেক দলের মধ্য থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিচারক প্যানেল চারটি দলকে চূড়ান্তভাবে ফেলোশিপের জন্যে মনোনীত করেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চারটি দল যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইট প্র্যাক্টিসেস, স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট সিনারিও, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট,স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম, সেক্টোরিয়াল স্টাডি ইন ইনোভেশনস এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশীপ, এবং সাকসেস অ্যান্ড ফেইলুর অব অন্ট্রোপ্রিনিয়রশিপ ইকোসিস্টেম।

প্রত্যেক দলকে তিন মাসব্যাপী এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে পুরষ্কার দেয়া হবে, যার অর্ধেক অর্থ ফেলোশিপের জন্যে মনোনীত হওয়ার পর, এবং বাকি অর্ধেক দেয়া হবে গবেষণাপত্র জমা দেয়ার পর।

অবশ্য শুধু গবেষণার জন্যেই অন্ট্রোপ্রিনিয়রশিপ রিসার্চ ফেলোশিপের প্রবর্তন করা হয়েছে, এমনটা বললে কম বলা হবে। এই ফেলোশিপ প্রোগ্রামের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের তরুণদের, এমনকি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও কোন ব্যবসায়ীক উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বে সেই ব্যবসা সম্পর্কে মার্কেট রিসার্চের ব্যাপারে যে অনীহা কাজ করে সেটি থেকে বের হয়ে আসা এবং ব্যবসার সাথে গবেষণাকে যুক্ত করে সেই ব্যবসাকে কিভাবে আরও লাভজনক করে তোলা যায় সেই ব্যবস্থা করা।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যারা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন কিংবা নিজের স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছেন তাদের নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দেয়া উচিত। দারুণ আইডিয়া কিন্তু অযত্নে আর অবহেলায় হারিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে নিজের ভবিষ্যৎকে শক্ত করতে শুরু থেকেই পরিকল্পনা আর দক্ষতা বিকাশে মনোযোগ দেয়া উচিত। বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভবনা আছে, সম্ভবনাকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে আমাদের।

 

হাসিব রশিদ, হেড অব বিজনেজ, জাংশন ভেঞ্চার্স

পাঠকের মন্তব্য

আপনার ই-মেইল অপ্রকাশিত থাকবেবক্সটি পূরণ করুন *

*

Pin It on Pinterest

Shares
Share This